ইউসুফ (আ.)-এর ইতিকথা
হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর ১১তম পুত্র। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর জন্মভূমির নাম ‘কেনান’ যা বর্তমান ফিলিস্তিনের একটি অংশ। পরবর্তীতে এই অঞ্চল ‘হেবরন এবং খলিল’ নামেও পরিচিতি পায়। ফিলিস্তিন, লেবানন এবং সিরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর কর্মপরিধির ব্যাপ্তি ছিল। তাঁর প্রথম স্ত্রী লাইয়া বিনতে লাইয়্যানের গর্ভে জন্ম নেন ১০ পুত্র। লাইয়ার মৃত্যুর পর তারই ছোটবোন রাহিলকে বিয়ে করেন হজরত ইয়াকুব (আ.)। তাদের ঘরে জন্ম নেন দুই পুত্র; হজরত ইউসুফ (আ.) এবং তার ছোটভাই বেনিয়ামিন। একাধিক হাদিস মতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) তৃতীয় আসমানে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন এবং তাঁকে অত্যন্ত সুদর্শন বলে বর্ণিত হয়েছে।
হজরত ইউসুফ (আ.) প্রথম জীবনে ক্রীতদাস, পরবর্তীতে জেলের আসামি এবং শেষ জীবনে মিসরের ক্ষমতাধর রাজকর্মচারী বা মন্ত্রী ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। এর বাইরে তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানের দুর্লভ ক্ষমতা বা দক্ষতা তাকে প্রসিদ্ধ করে তোলে। তিনি নবী হিসেবে তৎকালে মূর্তি উপাসকদের মাঝে এক আল্লাহর একাত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন।
পবিত্র কোরআনের ১২তম সূরা ইউসুফ
পবিত্র কোরআনের ১২তম সূরার নাম ‘সূরা ইউসুফ’। কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন সূরার আয়াত এবং ঘটনা বিভিন্ন স্থানে নাজিল হলেও সূরা ইউসুফের ১১১টি আয়াতের মধ্যে মাত্র চারটি ব্যতীত ১০৭টি আয়াত মক্কায় নাজিল হয়। এ সূরায় হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বাল্যকাল থেকে ক্ষমতায় আরোহণ এবং তাকে কেন্দ্র করে মোহগ্রস্ত নারীদের বর্ণনা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে অন্য নবীদের কাহিনি বিভিন্ন সূরায় বর্ণিত হলেও ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনি কেবল এই একটি মাত্র সূরায় বর্ণিত হয়েছে। নানাবিধ শিক্ষামূলক বর্ণনার কারণে সূরা ইউসুফকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে একাধিক সাহিত্য। তবে সাহিত্যে বর্ণিত সব ঘটনা বা চরিত্র কোরআন ও হাদিস সমর্থন করে না।